বিশেষ প্রতিবেদক
সারাদেশে একের পর এক মামলার শিকার গণমাধ্যম কর্মীরা দৈনিক চৌকস পত্রিকা সাংবাদিকসহ নির্যাতিত গণমাধ্যম কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন
হিরা বিশ্বাস, ]রাজশাহীতে ক্রমবর্ধমান ছিনতাই, হামলা ও অপরাধের শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দৈনিক চৌকস পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ রাজিব। আহত অবস্থায় তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আমজাদ আলীর পুত্র ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ রাজিবের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর থানাধীন বসন্ত কেদার (বকপাড়া) এলাকায়।
ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণশেষে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সাংবাদিক রাজিব। সে সময় তিনি তার ‘হিরো আইচএফ ডিলাক্স ১৩এস (১০০ ডব্লিউএমডব্লিউএম)’ লাল রঙের, মোটরসাইকেলযোগে রাজশাহী শহর থেকে মোহনপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে আমচত্বর মোড় অতিক্রম করার পর তিনি লক্ষ্য করেন, একটি পালসার মোটরসাইকেলে করে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। তারা একাধিকবার রাজশাহী বিমানবন্দর ও নওহাটা ব্রিজ এলাকায় তাকে অতিক্রম করে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করে।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে, পবা থানাধীন হাসেন জুট মিলের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ওই তিন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। এ সময় তাদের মুখে ছিল মানকি টুপি ও মাথা মাফলার দিয়ে ঢাকা। বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। তাদের একজনের মুখে ছিল লম্বা দাড়ি।
হঠাৎ করে একজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল থেকে নেমে রামদা দিয়ে কোপ দিলে সাংবাদিক রাজিব মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান। প্রাণভয়ে তিনি হাসেন জুট মিলের কাঁটাতারের বেড়া টপকে ভেতরে প্রবেশ করলে দুর্বৃত্তরা ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ইঞ্জিন নম্বর: এ০০৫০৪, চ্যাসিস নম্বর: সি০০৩২৭।
ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছেÑ মোঃ আলামিন (৩০), মোঃ আতিকুর রহমান (৩৩), মোঃ মাসুদ রানা (৪০) সহ আরও অনেকে।
পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরে পবা থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাজশাহী অঞ্চলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও কার্যকর প্রতিরোধ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অপর ঘটনায়, দৈনিক চৌকস পত্রিকার সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন ও ক্যামেরা পার্সন আরিয়ান হোসেন আবিদকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন ডি৮ ও এমএস ডিলার মোঃ আমিনুল ইসলাম মেহেদী। বর্তমানে সাংবাদিক আরিয়ান মুগদা মেডিকেলে কলেজে এন্ড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জানা যায়, ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাজারবাগ কালীবাড়ি পয়েন্টে মাটির রাস্তায় বিকাল ৪টায় ট্রাকে ওএমএস এর চাল, আটা মানুষদের না দিয়ে অর্ধেক ট্রাক ভর্তি চাল ও আটা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন তার ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করেন। ঢাকা রেশনিংয়ের দায়িত্বরত তদারককারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তদারককারী অফিসার ডিলার আমিনুল ইসলাম মেহেদীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এসময় অবিক্রীত পণ্য ব্যালেঞ্চ দেখানোর কথা বললে, ব্যালেঞ্চ না দেখিয়ে তদারককারী ও ডিলার আমিনুল ইসলাম মেহেদী সাংবাদিক আনোয়ারকে ঘুষের অফার করেন। আনোয়ার ঘুষ নিতে অস্বীকার করলে তদারককারী তরিকুল ইসলাম ও ডিলার আমিনুল ইসলাম তার উপর চড়াও হন। এসময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন ডিলার আমিনুল ইসলাম মেহেদী। এসময় আমিনুল ইসলামের ডাকে আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি এসে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন ও আরিয়ান হোসেন আবিদকে উপর্যুপরি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় সঙ্গে থাকা একটি জাপানি সনি ফুল এইচডি ক্যামেরা, একটি ‘অপো’ মোবাইল সেট, একটি ডিএসএলআর ডি ৭০০০ ক্যামেরা, একটি হেলমেট ও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় আমিনুল ও সঙ্গে থাকা অক্রমনকারীরা।
পরবর্তীতে এ দুই সাংবাদিক রক্তাক্ত অবস্থায় সবুজবাগ থানায় যান। অফিসার ইনচার্জকে বিস্তারিত বিষয় জানালে অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিক দুজনকে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আহত দুই সাংবাদিক সবুজবাগ থানায় এসে পুলিশ কেইস রিপোর্ট জমা দেন।
অফিসার ইনচার্জ তদন্ত অফিসারকে এজাহার লিখতে বলেন, আর ডিউটি অফিসারকে রাজারবাগ কালিবাড়ি মাটির রাস্তায় পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি সনি ক্যামেরা উদ্ধার করলেও, ডিএসএলআর ক্যামেরা, মোবাইলসেট, হেলমেট ও ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পারেননি।
এ ব্যাপারে ডিআরও ৮এর তদারককারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে ডিলার আমিনুল ইসলাম মেহেদীকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন সাংবাদিক সমাজ।
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আবু বক্কর সিদ্দিক, শফিকুল ইসলাম (এসটিভি বাংলা), এফ রহমান রূপক, আনোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান নিজামীসহ সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক চৌকস পত্রিকার সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন দৈনিক চৌকস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম নজরুল ইসলাম।
Leave a Reply